মুস্কিল আসান
উৎস : গুগল
"তুমি এতো ভুলে যাও কেন? কিছুই তো মনে থাকে না"।
"আর কি করা যায় বলুন?" বলে নমিতা। স্কুলের হেড টিচার বলতে থাকেন, "তোমাকে তো কোন দায়িত্ব- ই দেওয়া যাবে না"। শুনে নমিতার ঈষৎ রাগ হয়।রাগ না দেখিয়ে বলে "আচ্ছা বড়দি আজ কি আপনার মন ভালো নেই, তাই আজ আমার পালা।" বলে যায় নমিতা,স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা। বড়দি বলেন" চশমাটা কোথায় তোমার?"
"মানে! চশমা যেখানে থাকার সেখানে..." বলে চোখে হাত দিয়ে বুঝতে পারে বড়দির কথা। নমিতা এখানে, ওখানে খোঁজা শুরু করে কিন্তু চশমার সন্ধান পায় না। খানিকটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে নমিতা।সারা টিচার্স রুম তন্নতন্ন করে খুঁজে ও যখন চশমার সন্ধান পাওয়া যায় না তখন হতাশ হয়ে বসে পরে নমিতা। "চশমাটা ঠিক করে রাখাটা কি তোমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?" এই বলে একগাল হেসে বড়দি চশমাটা এগিয়ে দেন নমিতার হাতে।
আবার দিন দশেক পর বড়দি বলেন নমিতাকে, "তোমার কি কোন কালে আঙ্কেল হবে না?"
"কেন বড়দি আবার কি হলো?"
বড়দি বলেন নমিতাকে "আমি যে mail পাঠালাম তার উত্তর টা দিলে না যে।" এবার নমিতা নড়ে বসে। "সত্যি তো মোবাইল অনেকক্ষণ দেখি নি" ,বলেই ব্যাগপত্তর খুঁজতে থাকে, কিন্তু মোবাইল পাওয়া যায় না। "কি গো, mail চেক্ করে উত্তর দাও"। ততক্ষণে নমিতা চিন্তায় ঘামতে শুরু করেছে। বড়দি আরচোখে একবার করে নমিতাকে দেখেন আর হাসি চেপে কাজে মন দেন। নমিতা অনেক খোঁজাখুঁজি করে যখন ব্যর্থ হয় এবং দুশ্চিন্তায় পড়েন ঠিক তখনই দেবদূতের মতো বড়দি এগিয়ে এসে মোবাইল টা দেন।
এই ভাবেই ভুলো মনের জন্য ঘরে-বাইরে নমিতা অপদস্থ হয়। কিন্তু কিছুই মনে রাখতে পারে না।তার কিছুদিন পর আবার ভুল করে বসে নমিতা। এবার স্কুলে পরীক্ষার খাতা ট্রেনে রেখে নেমে পড়ে। বাড়ি এসে নিজের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরে। সব কাজ সেরে খাতা চেক্ করতে গিয়ে দেখে ব্যাগে খাতা নেই। এবার তো মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলার জোগার। সারারাত ঘুমের বারোটা তো বাজলো সাথে বাড়ির লোকজন দের ও।
এবার কি করবে নমিতা। সারাদিন মুখ কাঁচুমাচু করে বসে থাকে। কোন কিছু তেই মন দিতে পারে না।থানায় একটা ডায়েরী করতে হবে ভাবতে থাকে। এখানে ও মুশকিল আসানের কাজ করে বড়দি। বড়দির পাড়ার একজন খাতাগুলো পায়, স্কুলের নাম দেখে বড়দির কাছে দিয়ে আসে।
স্কুলে এসে কারো সাথে কথা বলে না ও ক্লাসে চুপচাপ থাকে নমিতা। স্কুল ছুটির পর থানার উদ্দেশ্যে যাবে বলে ঠিক করে। বিমর্ষ চিত্তে স্কুল ছুটির পর যেই গেটের দিকে পা বাড়ায় নমিতা, বড়দি হাঁক পারেন,"আজ যে বড়ো কিছু না বলে চলে যাচ্ছ? তো যাওয়া হচ্ছে টা কোথায়? থানায়? কিছু হারিয়ে গেছে বুঝি?" নমিতা ভয়ে কেঁপে উঠে। আমি তো কাউকে বলি নি, তবে বড়দি জানলো কি করে? ঠিক তখনই খাতার বান্ডিল নমিতার দিকে এগিয়ে দেন বড়দি। খাতাগুলো দেখা মাএ আনন্দের আতিশয্যে নমিতা বড়দি কে জড়িয়ে ধরে। এই ভাবেই নমিতার মুস্কিল আসান হয়ে ওঠেন বড়দি।
🖋️ মন্দিরা সিনহা


খুব ভালো লিখেছেন, এমনকি আমি অনেক কিছু ভুলে যাই
ReplyDeleteNicely written! 👍
ReplyDelete