Posts

Showing posts from June, 2024

অনাত্মীয়

Image
  উৎপল খুব অল্প বয়সে মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করে আনে নেহাকে। এত অল্প বয়সে ঠিকমত নিজের ক্যারিয়ার তৈরি না করে মা বাবার পূর্ণ সম্মতিতে সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়ে যায় নেহা ও উৎপলের। উৎপল এবং নেহার বাবা দুজনেই সরকারি চাকুরে। নেহার বাবা অবসর নিতে ৩ বছর এবং উৎপল এর বাবার অবসর নিতে আরো ৭ বছর বাকি তখন। উৎপল তার কর্মস্থলে নেহাকে নিয়ে চলে যায় বিয়ের ছ মাস বাদেই। সেখানে সংসার পাতে এবং খুব আনন্দের সঙ্গে দিনগুলো অতিবাহিত করতে থাকে। যেহেতু উৎপলের অন্যান্য বন্ধুরা তখন ও বিয়ে করেনি, তাই নেহার বাড়ি ছিল ওদের সবার আড্ডা স্থল। নেহা খুব মিশুক হওয়ার জন্য ওদের নেহাদের বাড়িতে যাতায়াত করতে কখনোই কোন অসুবিধা হতো না। ছুটির দিনে খোস মেজাজে খেলাধুলা, খাওয়া-দাওয়া সবই চলতো নেহাদের বাড়িতে ।অবশ্য নেহাকে কিছুই করতে হতো না ।সবই করতো উৎপল এবং তার বন্ধুবর্গ। উৎপল তাতে বেজায় খুশি হতো ।সে ছিল ভীষণ পরোপকারী এবং কর্মস্থলের আশেপাশের লোকজন উৎপল, নেহাকে ভীষণ পছন্দ করতো। কারোর আপদে বিপদে সব সময় উৎপল ছুটে যেত অকৃতদার হিসেবে। এইভাবে ছোট্ট শহরে উৎপল প্রত্যেকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে। দেখতে দেখতে দু-তিন বছর পর থেকে বন...

স্নেহ

Image
উত্স: গুগল   ডানপিটে, ডাকাবুকো সুদীপবাবু, স্ত্রী ও দুই ছোট ছোট পুত্র সন্তান নিয়ে খুব সুখেই সংসার পেতে ছিলেন নিজের কর্মস্থল রাউরকেল্লায়। স্ত্রী ছিলেন সরকারি নার্স আর উনি চাকরি করতেন পুলিশে। প্রথমদিকে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন, সঙ্গে ছিলেন ওনার বিধবা মা। মা সর্বক্ষণ নাতির বাবুদের আগলে রাখতেন। কারণ স্ত্রী সুনয়নার ডিউটির কোন নির্দিষ্ট সময় ছিল না। আবার সুদীপ বাবুর ও কোন ডিউটির নির্দিষ্ট সময় না থাকার জন্য ছোট ছোট ছেলেদের ভরসাস্থল ছিল তাদের ঠাকুমা। বড় ছেলে সুমনের বয়স যখন পাঁচ বছর আর ছোট ছেলে ইমনের বয়স দুই বছর তখন তিনি নিজস্ব দোতলা বাড়ি তৈরি করেন রাউরকেল্লা শহরে। সুনয়না নিজের হাতে সুন্দর করে সেই বাড়ি গুছিয়ে তোলেন। কিন্তু এই সুখের সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয় না সুদীপবাবুর। হঠাৎ করেই একদিন সুনয়না সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন মাত্র 35 বছর বয়সে। চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে উনি চলে যান। সুদীপ বাবুর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। সব সময় অবসাদ, দুশ্চিন্তা ওনাকে গ্রাস করতে থাকে। এর ঠিক এক মাসের মাথায় ওনার মা ও সংসারের মায়া ত্যাগ করে চলে যান অমৃত লোকে। ছোট দ...

সুচেতা ত্ত সুদেষ্ণা

Image
  উৎস ত্রি দিব একসাথে তিনটি সরকারি পরীক্ষায় সম্মানের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে কাস্টমসের চাকরি তে জয়েন করেন। ছোটবেলার প্রাণের বন্ধু সুচেতাকে চিঠির মাধ্যমে এ কথা জানান ত্রিদিব । চাকরি সূত্রে সুচেতার বাবা বদলি হয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতেন বলে ত্রিদিব ও সুচেতা প্রাইমারি স্কুলে একসাথে পড়াশোনা করলেও পরবর্তীকালে একসাথে পড়ার সৌভাগ্য দুইজনের আর হয়নি। কিন্তু দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। এদিকে সুচেতা নার্সিং ট্রেনিং নিয়ে একটি সরকারি হাসপাতালে চাকরি শুরু করেছে ততদিনে। ত্রিদিব -এর ফোন পেয়ে সুচেতা আনন্দে ত্রিদিবকে তার সাথে দেখা করার জন্য অনুরোধ করে । কিন্তু নতুন চাকরি হওয়ার জন্য ত্রিদিবের যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও যাওয়া হয়ে ওঠে না সুচেতার কাছে। বছর দুই পর সুচেতার বাবা রিটায়া র করে সুচেতার কাছে পাকাপাকিভাবে চলে আসেন সস্ত্রীক। সুচেতা তখন কোচবিহারে কর্মরতা। ত্রিদিব মুম্বাই -এ কর্মরত । এদিকে সুচেতার কাজের চাপ বাড়তে থাকায় এবং দায়িত্ব ভীষণভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিজের জগৎ নিয়ে অধিকাংশ সময় থাকতে হতো। এই সময় সুচেতা ডক্টর মলয়ের সুনজরে আসে। ওটিতে সবসময় ডাক্তারদের সাথে সুচেতাকে থাকতে হতো ক...

নাসির ও ফতেমা

Image
  নাসির ও ফতেমা অল্প বয়সে বিয়ে করে নিজেদের ইচ্ছায়। দুটি সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকেই তাদেরকে মেনে নেওয়া হয় না। কারণ মুসলিম হলেও দুইজনে ছিল দুই সম্প্রদায়ের। যার পরিণতিতে নাসির ও ফতেমা সম্ভ্রান্ত হওয়া সত্বেও দুই বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে নিজেদের মতো সংসার করতে থাকে। কয়েক বছর সংসার করার পর , সংসার যখন বাড়তে থাকে, তখন আর্থিক অনটনের জন্য কলকাতা খিদিরপুর এলাকায় খুব কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকা শুরু করে। নাসির খিদিরপুর ডকে ক্লাস ফোর স্টাফ হিসাবে যোগ দেয় ,তার সাথে সাথে ইউনিয়ানে সাথে যুক্ত হয়। বিয়ের পরে হায়দ্রাবাদে থাকতো নাসির ও ফতেমা। কিন্তু এক ছেলে ও দুই মেয়ে হওয়ার পর খুব কষ্টে শিষ্টেও সংসার চালানো সম্ভব না হওয়ার জন্য সপরিবারে কলকাতায় চলে আসে। একবার নাসির ও ফতেমা দুইজন মিলে খিদিরপুরে মাজারে সিন্নি চরাতে আসে। মাজারে ফতেমা খুব ভালো মতো আল্লাহকে স্মরণ করে যখন বাইরে আসে তখন এক ফকিরকে দেখতে পায়। ফকির প্রসাদ চায়, ফতেমা তাকে যত্ন করে প্রসাদ দেয় আর সেই ফকির এক টাকার নোট ফতেমার হাতে দিয়ে যত্ন করে রাখতে বলে। ফকিরের হাত থেকে এক টাকা পেয়ে ফতেমা খানিক বিস্মিত হলেও খুব যত্ন করে...