প্রীতিলতা ও প্রসন্ন
সূত্র: গুগলচুল হচ্ছে সৌন্দর্যের চাবিকাঠি। ঘন কালো একরাশ কোঁকড়ানো চুল একজনের সৌন্দর্য শত গুণ বাড়িয়ে দেয়। আবার দেখতে ভালো হলেও যদি চুলের ঘনত্ব ঠিকমতো না থাকে তাহলে সৌন্দর্য অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বহু আগে থেকে মানুষ পরচুলা ব্যবহার করে আসছে। আর একরাশ কোঁকড়ানো ঘন কালো চুল বর্ণিত হয়েছে বিভিন্ন কবির কবিতার ।চুল যেমন সৌন্দর্য বাড়ায় তেমনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুল আবার মানুষের বিরক্তির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। যেমন খেতে বসে পাতে চুল দেখলে পুরো খাওয়াটাই মাঠে মারা যায়। ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় গাদা গাদা চুল ,কার্পেটময় চুল এর কোনটাই যেমন ভালো লাগে না, তেমনি চুল যেহেতু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তাই এই ব্যাপার গুলো বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালেও মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
প্রীতিলতা যখন বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন তখন তার স্বামী প্রসন্ন বলেছিলেন যে একরাশ ঘন কালো মা দুর্গার মতো কোঁকড়ানো চুলই প্রীতিলতার প্রতি তাকে আকৃষ্ট করেছিল। প্রসন্নের মাথায় চুল ছিল না সেই জন্য তিনি পরচুলা ব্যবহার করতেন। এ কথা সযত্নে তিনি প্রীতিলতাকে লুকিয়ে গিয়েছিলেন। কাজেই ফুলশয্যার রাতে প্রীতিলতা যখন দেখেন যে স্বামী পরচুলা খুলে রাখছেন, তখন তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কারণ যে চেহারাটা উনি দেখেছিলেন পরচুলা খুলে ফেলতে সেই চেহারার সাথে কোন সাদৃশ্য ছিল না এই চেহারার। এই চুল বিভ্রাট দু'জনের মধ্যে বিচ্ছেদের কাছাকাছি এনে দিয়েছিল। কিছু সহৃদয় বন্ধু-বান্ধবের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয় এবং দুজনের মধ্যে যতই মন কষাকষি থাকুক না কেন বিচ্ছেদ অবধি তা গড়ায় না।
সূত্র: গুগলকিন্তু কারণে অকারণে প্রীতিলতা প্রসন্নকে এই চুল নিয়ে কথা শোনাতে ছাড়েন না, সব সময় টিপ্পনি কাটেন। এসব ব্যাপার প্রসন্নের গা সওয়া হয়ে গিয়েছিল। চুলের খামতি ছাড়া স্বামী হিসেবে আর কোন খামতি ছিল না প্রসন্নের। কিছুদিনের মধ্যে তা বিলক্ষণ টের পায় প্রীতিলতা। বন্ধুবান্ধব ও বোনদের সঙ্গে যখন প্রীতিলতার আড্ডার ছলে আলাপ-আলোচনা চলতো স্বামীদের নিয়ে, তখন প্রীতিলতা লক্ষ্য করে যে প্রত্যেকের-ই কোন না কোন অভিযোগ অনুযোগ রয়েছে স্বামীদের বিরুদ্ধে। প্রীতিলতা তার স্বামীর মধ্যে সেরকম কোন অভিযোগ আঙ্গুল তুলে দেখাতে পারে না । যত দিন যেতে থাকে প্রসন্নের প্রতি ভালোবাসা বাড়তে থাকে প্রীতিলতার। একদিন প্রীতিলতা প্রসন্ন কে বলে" ভাগ্যিস তুমি পরচুলা পড়ো জানাও নি ,তা না হলে এরকম হীরের টুকরো স্বামী আমি হাতছাড়া করতাম। এই একটা মাত্র দোষ করেছিলে বলেই আর কোন দোষ আমি তোমার দেখতে পেলাম না আজ পর্যন্ত। অনেকের-ই স্বামীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনতে পাই ,সে দিক থেকে আমি ভাগ্যবতী "বলে প্রীতিলতা। প্রীতিলতার এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রসন্নকে সত্যিই আরো প্রসন্ন করে তোলে।
✍️ মন্দিরা সিনহা


Comments
Post a Comment