Posts

Showing posts from April, 2024

প্রীতিলতা ও প্রসন্ন

Image
সূত্র: গুগল চুল হচ্ছে সৌন্দর্যের চাবিকাঠি। ঘন কালো একরাশ কোঁকড়ানো চুল একজনের সৌন্দর্য শত গুণ বাড়িয়ে দেয়। আবার দেখতে ভালো হলেও যদি চুলের ঘনত্ব ঠিকমতো না থাকে তাহলে সৌন্দর্য অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বহু আগে থেকে মানুষ পরচুলা ব্যবহার করে আসছে। আর একরাশ কোঁকড়ানো ঘন কালো চুল বর্ণিত হয়েছে বিভিন্ন কবির কবিতার ।চুল যেমন সৌন্দর্য বাড়ায় তেমনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুল আবার মানুষের বিরক্তির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। যেমন  খেতে বসে পাতে চুল দেখলে পুরো খাওয়াটাই  মাঠে মারা যায়।  ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় গাদা গাদা চুল ,কার্পেটময় চুল এর কোনটাই যেমন ভালো লাগে না, তেমনি চুল যেহেতু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তাই এই ব্যাপার গুলো বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালেও মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।  প্রীতিলতা যখন বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন তখন তার স্বামী প্রসন্ন বলেছিলেন যে একরাশ ঘন কালো মা দুর্গার মতো কোঁকড়ানো চুলই প্রীতিলতার প্রতি তাকে আকৃষ্ট করেছিল। প্রসন্নের মাথায় চুল ছিল না সেই জন্য তিনি পরচুলা ব্যবহার করতেন। এ কথা সযত্নে তিনি প্রীতিলতাকে লুকিয়ে গিয়েছিলেন। কাজেই ফুলশয্যা...

নটে গাছটি মুড়লো

Image
 বেশ অনেক বছর আগের কথা বলছি হঠাৎ করেই মনে হলো তাই লিখছি।   বন্দনা কে প্রায়শ- ই আসতে হতো যাদবপুর।কারণ সেখানে তখন তার বাপের বাড়ি । এই রকমই একদিন বন্দনা বাসে চলেছে গন্তব্য যাদবপুর। তার পাশের সিটে এক ভদ্রলোক খুব সুদর্শন চেহারা  বছর পাঁচেকের বড় হবেন বসলেন।একটা ভালোলাগা বন্দনার মধ্যে কাজ করছিল ভদ্রলোককে দেখার পর থেকে। অনেকক্ষণ ধরে বন্দনা বাইরে জানলার দিকে তাকিয়ে বাইরেটা দেখছিল । উনি কথা শুরু করলেন "আপনি কত দূর চললেন"? উত্স: গুগল  বন্দনা খানিকটা ইতস্তত করে বললো বাসটা যে সীমানায় শেষ হবে। উনিও হেসে বললেন আমারও গন্তব্য তাই। ভদ্রলোক আবারও জিজ্ঞাসা করলেন  "আপনি কি চাকুরীরতা" বন্দনা বললো," হ্যাঁ আমি পোস্ট অফিসে চাকরি করি"। তা থাকা হয় কোথায়? হ্যাঁ চাকরি যখন করি তখন তারই কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা। তাই তো জিজ্ঞাসা করছি আপনাকে," আপনি কোন জায়গায় চাকরি করেন"? কেন বলুন তো? জায়গার নাম যদি আপনাকে না বলি তাহলে কি আপনার বিশেষ অসুবিধা হবে। চেনা নেই, জানা নেই,আপনাকে আমি সব কথা বলতে যাব কেন মশাই? একটু বিরক্তির সঙ্গে বলে বন্দনা। প্রথম থেকেই যদি আপনি এই রকম মেজাজে কথ...

বন্ধু

 বীরেন চ্যাটার্জি জাঁদরেল উকিল। ক্রিমিনাল কেসে সিদ্ধহস্ত । কেস উনার হাতে একবার গেলে কোর্টে জয় অনিবার্য। খুব সুন্দর কেস স্টাডি করে উনি অপরপক্ষকে নিজ কায়দায় বেকায়দায় ফেলার ওস্তাদ।  স্ত্রী নন্দিনী বাড়িতে ও বাইরে সমানভাবে কাজে দক্ষ। একটি কলেজের অধ্যাপিকা ও বটে।  ওনারা দুজন ছাড়া বাড়িতে আছেন বীরেন চ্যাটার্জির মা, বাবা ও একমাত্র ছেলে প্রেমাংশু। বাড়ির নিচে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘরে যেহেতু ওনার চেম্বার সেই কারণে বহু লোকের যাতায়াতে সরগরম থাকতো  বসতবাড়ি। বসতবাড়ির মধ্যে থেকেও একদম আলাদা ছিল উকিল বাবুর চেম্বার। কেউ চেম্বারে এলেও বাড়ির ভেতরে কি হচ্ছে তা বুঝার কোন অবকাশই ছিল না। একবার উকিল বাবু চেম্বারে চলে গেলে কোন প্রয়োজনীয় কথা থাকলেও ফোন ছাড়া উনার কাছে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। নন্দিনীর সারাদিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেই কাটতো ঘরে বাইরে,ফুরসৎ পাওয়ার সময় ছিল খুবই কম। তার মধ্যেও বীরেন বাবুর সাথে সারাদিনে রাত আটটার পর কথা বলার সুযোগ হতো।  আধঘন্টা আলাপ চারিতার মাধ্যমে দুজন দুজনের অনেক কাছাকাছি আসবেন এবং সমস্ত রকম সাংসারিক ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করতেন। এইভাবেই একটি সুমধুর সম...

তিন বোনের গল্প

Image
উত্স: গুগল বন্দনা, চন্দনা, সুমনা তিন বোন। তিনজন- ই দেখতে শুনতে বেশ ভালই ছিল ।বাবা যেহেতু সরকারি চাকরি করতেন কাজেই সরকারি স্কুল থেকেই তিনজনের পড়াশোনা। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে বেশ সখ্যতা ছিল এই তিন বোনের। খেলা ,পড়াশোনা , বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারা সবকিছুই চলতো। তাদের মধ্যে মেজ বোন চন্দনা ছিল খুব ডানপিটে। বাইরে থেকে যা কিছু অভিযোগ অনুযোগ আসতো সবই চন্দনা কে কেন্দ্র করে। যতই বাবার কাছে মার খাক না কেন তাতে চন্দনার কোন হেলদোল ছিল না। মাথায় সব সময় দুষ্টু বুদ্ধিতে ঠাসা ছিল চন্দনার। আর দুই মেয়েকে নিয়ে নেপাল বাবুর কোন দুশ্চিন্তা ছিল না ।একমাত্র চন্দনা পড়াশোনার সাথে সাথে খেলাধুলা বন্ধুদের সাথে সমান তালে মারপিট করা, মুখে মুখে তর্ক করা কোন কিছুতেই কমতি ছিল না। বন্দনা ও সুমনা লুডু, চাইনিজ চেকার, ক্যারাম খেলতো। কিন্তু চন্দনা এসব খেলার থেকে ডাঙ্গুলি, গুলি ,খো খো এসব খেলাতে বেশি সাবলীল ছিল। কাজেই চন্দনার ছেলে বন্ধু ছিল বেশি। এত ছেলে বন্ধু থাকলেও নেপালবাবু কখনো তা নিয়ে দুশ্চিন্ত করতেন না। কিন্তু নেপাল বাবুর স্ত্রী নমিতা দেবীকে পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে এই নিয়ে পাঁচ কথা শুনতে হতো। কাজেই সব রাগ গিয়ে উন...

এক শীতের সকাল

  ভোরবেলা ডোরবেলেরয় আওয়াজে ঘুম ভাঙলো, এত সকালে ওঠার অভ্যাস আমার কোন কালই নেই। যেমন গভীর রাত অব্দি জাগতে পারি সেরকম সকাল ৭ টার আগে বিছানা ছাড়ি না ।অতঃপর ডোরবেলের আওয়াজে খানিকটা বিরক্তি মাখানো মুখে ধীরে ধীরে এসে দরজা খুললাম। দরজা খুলে খানিক হতভম্ব  হলাম। এক মাঝ বয়সী ভদ্রলোক, ভদ্রমহিলা ট্রলি ব্যাগ, হাত ব্যাগ নিয়ে ঢোকার অপেক্ষায়। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে খানিকটা অস্বস্তির সঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন  "আচ্ছা মিস্টার তালুকদারের বাড়ি এটা না"?  আমি বললাম "আজ্ঞে না"। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, আমি বললাম "আমার ঠিক ওপরের ফ্ল্যাটে ওনারা থাকেন"।  "ও হো, হো সকালবেলা আপনার একটু ঘুমের ব্যাঘাত হোল, সরি, সরি" বলে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেন।  আমি দরজা বন্ধ করে শুতে যাব আমার তখনো ও ঘুম মেশানো চোখ, হঠাৎ ব্যালকনির দিক থেকে চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজে, আমার মন চলে গেল ব্যালকনিতে। কি হচ্ছে দেখার জন্য উদগ্রীব হলাম। এই হচ্ছে আমাদের একটা দোষ। কোথায় কি গন্ডগোল হচ্ছে, আরে হতে দাও না, সাহায্য কিছু করতে পারি, না পারি শোনা চাই।  যেন শোনার পর রিপোর্ট করবো কোন খবরের কাগজের দপ্তরে।...

চৌধুরী পরীবার

Image
উৎস : Google কুনাল চৌধুরী, শিল্পপতি কেতকি চৌধুরীর একমাত্র ছেলে। পড়াশোনায় মোটামুটি ভালই। মেধাবৃত্তির জন্য নয়, খানিকটা পয়সার জোরে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে একেবারে বকে যায়। মদ, গাঁজা ,জুয়া ,সাট্টা কোন কিছুই  বাদ থাকে না, এমনকি নারী সঙ্গ। বিদেশের পড়া শেষ করে কুনাল ফিরে আসে দেশে এবং বাবার ব্যবসায় যোগ দেয়। বাবার কোম্পানির  CEO  পদে। যোগ দেওয়ার পর থেকে নিজেদের ব্যবসায়  ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ব্যবসা মার খেতে থাকে। প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে যায় অন্যান্য কোম্পানিগুলি থেকে। এই নিয়ে বাবার সাথে ছেলে কুনালের তর্ক বেঁধে যেত প্রতি পদে, প্রতি মুহূর্তে। একদিকে ব্যবসার মন্দা অপরদিকে ছেলে কুনালের নানান রকম নেশা এবং নারী সঙ্গে টাকা ওড়ানো সব কিছু মিলিয়ে চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার কেতকি বাবুর নাজেহাল অবস্থা। কেতকি বাবু স্ত্রী মিতালীর কাছে এই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।   কি ভেবেছিলাম আর কি হয়ে গেল ।ছেলে আমার বিদেশের ডিগ্রী নিয়ে এলো ঠিকই , তার সঙ্গে অন্য কতগুলো বদগুণ নিয়ে এদেশে ফিরে এলো । আমার ব্যবসার পক্ষে যা ক্ষতিকারক। কোম্পানির রমরমা ব্যবসা যে ভীষণভাবে মুখ থুবড়ে...

মুস্কিল আসান

Image
  উৎস : গুগল "তুমি এতো ভুলে যাও কেন? কিছুই তো মনে থাকে না"। "আর কি করা যায় বলুন?" বলে নমিতা। স্কুলের হেড টিচার বলতে থাকেন, "তোমাকে তো কোন দায়িত্ব- ই দেওয়া যাবে না"। শুনে নমিতার ঈষৎ রাগ হয়।রাগ না দেখিয়ে বলে "আচ্ছা বড়দি আজ কি আপনার মন ভালো নেই, তাই আজ আমার পালা।" বলে যায় নমিতা,স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা। বড়দি বলেন" চশমাটা কোথায় তোমার?" "মানে! চশমা যেখানে থাকার সেখানে..." বলে চোখে হাত দিয়ে বুঝতে পারে বড়দির কথা। নমিতা এখানে, ওখানে খোঁজা শুরু করে কিন্তু চশমার সন্ধান পায় না। খানিকটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে নমিতা।সারা টিচার্স রুম তন্নতন্ন করে খুঁজে ও যখন চশমার সন্ধান পাওয়া যায় না তখন হতাশ হয়ে বসে পরে নমিতা। "চশমাটা ঠিক করে রাখাটা কি তোমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?" এই বলে একগাল হেসে বড়দি চশমাটা এগিয়ে দেন নমিতার হাতে। আবার দিন দশেক পর বড়দি বলেন নমিতাকে, "তোমার কি কোন কালে আঙ্কেল হবে না?" "কেন বড়দি আবার কি হলো?" বড়দি বলেন নমিতাকে "আমি যে mail পাঠালাম তার উত্তর টা দিলে না যে।" এ...